নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সোমবার (৪ মে ২০২৬) বিকেলে স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনে সৌদি আরব গমন করেন। ধর্মীয় এই অভিন্নতা দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আবারও সঠিক পথে ফিরেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত ছিল, যা বর্তমান সরকারের অধীনে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদার এবং সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তজনা এবং এর প্রভাব নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পিকার রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন যেন সৌদি আরব ওআইসির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই মানবিক সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করে। সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।