আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে নজিরবিহীন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ক্রেমলিন। ইউরোপীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য অভ্যুত্থান এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে গুপ্তহত্যার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের নিরাপত্তা এখন আর কেবল দেহরক্ষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা রাঁধুনি, আলোকচিত্রী এবং ব্যক্তিগত সহকারীদের গণপরিবহন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের বাড়িতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি বসানো হয়েছে এবং তাঁদের ‘ইন্টারনেটবিহীন’ এনালগ ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে হলে দর্শনার্থীদের দুই ধাপে কঠোর তল্লাশি পার হতে হচ্ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার এক শীর্ষ জেনারেল হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রুশ নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ক্রেমলিনের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে নিয়ে রুশ প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের চার বছরে এসে পুতিন এখন নিয়মিত জনসম্মুখে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁর চলাফেরা এখন অনেকটাই সীমিত। মস্কোর বাসভবন কিংবা সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনে তাঁকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না। এর পরিবর্তে ক্রেমলিন থেকে তাঁর আগে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সুরক্ষিত বাংকারে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের মতে, প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে। ড্রোন হামলা এখন আর ইউক্রেন সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; মস্কোর অভিজাত এলাকাগুলোতেও ড্রোন হামলার ঘটনা রুশ মধ্যবিত্তদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে। শহরগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কের বিঘ্ন ঘটাও পুতিনপন্থী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুতিন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিস (এফএসও)-এর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি আরও ১০ জন শীর্ষ কমান্ডারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের তথ্য ফাঁস হওয়া রাশিয়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। তবে ক্রেমলিনের বর্তমান কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের ভেতরের সম্ভাব্য ‘বিদ্রোহী’দের নিয়েই বেশি চিন্তিত।