আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অংশের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার (৪ মে ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই ‘স্মার্ট কন্ট্রোল জোন’ বা নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই ঘোষণার পর ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে আমাদের নিয়ন্ত্রণে। যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে এই পথ দিয়ে চলাচলের সময় অবশ্যই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।”
ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক দিনে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারের জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এক সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প গত রবিবার এই অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইরান মনে করছে, এই অভিযানের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাদের পানিসীমায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।
ইরানি সংবাদসংস্থা ফাস নিউজ দাবি করেছে, সোমবার সকালেই একটি মার্কিন ফ্রিগেট ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা করায় সেটিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক জাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে তাদের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নতুন ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’ নিয়ে বিরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।