আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বা 'অপারেশন রোরিং লায়ন' থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও দুই স্কোয়াড্রন—অর্থাৎ মোট ৫০টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ আই এবং এফ-১৫ আইএ যুদ্ধবিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় কমিটি এই বিশাল চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিন থেকে চতুর্থ এফ-৩৫ আই স্কোয়াড্রন এবং বোয়িং থেকে দ্বিতীয় এফ-১৫ আইএ স্কোয়াড্রন কেনা হবে।
বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে ৪৮টি এফ-৩৫ আই রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে আরও ২৫টি এফ-৩৫ অর্ডার করা হয়েছিল, যা ২০২৮ সাল থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে অর্ডার করা ২৫টি এফ-১৫ আইএ বিমানের প্রথম ডেলিভারি ২০৩১ সালে পাওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, “সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ আরও একবার প্রমাণ করেছে আকাশবাহিনীর শক্তি দেশ রক্ষায় কতটা নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। ওই অভিযানের শিক্ষা আমাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে, যাতে আগামী কয়েক দশক আকাশসীমায় আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকে।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম জানান, বর্তমান যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরের মধ্যেই ইসরায়েলের এই বিশাল সামরিক ক্রয়ের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর ইসরায়েল এখন তাদের ‘আইডিএফ’ এর দীর্ঘমেয়াদি বাহিনী উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে বিবেচনা করছে। এই চুক্তি সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্র মিশনকে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।