অতিবৃষ্টিতে ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় অন্তত ২১ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সারা বছরের আহার জোগানোর স্বপ্নে বিভোর থাকা কৃষকরা এখন দিশাহারা। বোরো আবাদের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ৫১৭ হেক্টর জমির সবজিও।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নেত্রকোনার সাতটি হাওর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই জেলার ১৬ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ধান এখন পানির নিচে। নেত্রকোনার বারহাট্টার কৃষক বাবলু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "সারা বছর এই ধানের জন্যই অপেক্ষা করি, অথচ এখন সেই ধান পানির নিচে। আমাদের সবার মন খুব খারাপ।"
নেত্রকোনা: ১৬,০৩৬ হেক্টর (সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মদন, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, খালিয়াজুড়ি, কলমাকান্দা, আটপাড়া ও কেন্দুয়া)।
ময়মনসিংহ: ৪,৮০৪ হেক্টর ধান ও ৪০৫ হেক্টর সবজি।
জামালপুর: ১,০৮৬ হেক্টর ধান।
চলতি বোরো মৌসুমে এই বিভাগে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর। মোট ৩০ লাখ ৯২ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে অসময়ের এই বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে শুরু থেকেই কৃষকদের সেচ দিতে বেগ পেতে হয়েছে। এরপর শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এই অতিবৃষ্টি নতুন দুর্যোগ হয়ে এসেছে। অনেক কৃষক শ্রমিক সংকটের কারণে পানির নিচ থেকেই ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক সালমা আক্তার জানান, যেসব এলাকায় ধান তলিয়ে গেছে সেখানে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত/সকালবেলা