নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিগত বছরগুলোকে ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বর্তমানে দেশের সংসদীয় ধারায় যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে আর কখনোই সেই অন্ধকার সময় ফিরে আসবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (২ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা ও সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে তার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
তিনি লেখেন, “আমি সাংবিধানিক আইন পড়াই। আগে ক্লাসে যখন বলতাম যে, সংসদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তখন ছাত্ররা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত। কারণ শেখ হাসিনার শাসনামলে তারা সংসদে এমন কোনো পরিবেশ বা জবাবদিহিতার চর্চা দেখেনি।”
নতুন সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন পর আজ ক্লাসে যখন একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন শিক্ষার্থীরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খুব সহজেই মেলাতে পেরেছে। আসিফ নজরুলের মতে, বর্তমান সংসদে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান কিংবা সরকারি দলের নওশাদ জমিরের বক্তব্য শুনে তরুণ প্রজন্ম সংসদীয় গণতন্ত্রের আসল রূপ বুঝতে পারছে।
আসিফ নজরুল তার পোস্টে লিখেছেন, “জবাবদিহিতা আর সংসদের মূল দায়িত্ব কী, তা বোঝাতে এখন আর বেগ পেতে হচ্ছে না। নতুন সংসদ ও এর সদস্যদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে অধ্যাপক আসিফ নজরুল পুনরায় তার শিক্ষকতা পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমান সংসদের প্রাণবন্ত আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদের প্রকৃত ক্ষমতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আসিফ নজরুলের মন্তব্য তারই প্রতিফলন।