অফিস শেষে সংসারে বেতনবিহীন ‘দ্বিতীয় শিফট’

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ণ
অফিস শেষে সংসারে বেতনবিহীন ‘দ্বিতীয় শিফট’

আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। সারা দেশে যখন শ্রমিকের অধিকার, আট ঘণ্টা কাজ আর ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন আড়ালেই থেকে যাচ্ছে চাকরিজীবী নারীদের ‘দ্বিতীয় শিফট’-এর গল্প। অফিস শেষে ঘরে ফিরে যে ১৬ ঘণ্টা নারীরা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, তার কোনো ওভারটাইম বোনাস নেই, নেই কোনো স্বীকৃতি।

অদৃশ্য শ্রমের বোঝা: পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে একজন চাকরিজীবী নারী অফিসের বাইরে ঘরের কাজে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় দেন। বিপরীতে পুরুষরা দেন মাত্র ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। অফিস থেকে ফিরে পুরুষ সহকর্মীরা যখন বিশ্রাম বা বিনোদনের সুযোগ পান, নারীরা তখন শুরু করেন রান্না, সন্তানের পড়াশোনা আর ঘর গোছানোর অন্তহীন কাজ। এই ‘বেতনহীন’ শ্রমই মূলত একটি পরিবারের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের অভাব: মে দিবসের বড় বড় বক্তৃতায় গৃহিণী বা কর্মজীবী নারীর এই সাংসারিক শ্রমের হিসাব কোথাও থাকে না। বেতন মানে কেবল নগদ অর্থ নয়, বেতন মানে শ্রমের ‘মূল্যায়ন’ ও ‘স্বীকৃতি’। পুরুষের আয়ে সংসার চললেও, নারীর অবৈতনিক পরিশ্রমের কারণেই সেই আয়ের একটি বড় অংশ সঞ্চয় করা সম্ভব হয়। অথচ এই বিশাল অবদানকে সমাজ ‘প্রেম, মায়া ও মমতা’র দোহাই দিয়ে অদৃশ্য করে রাখে।

বিশ্রাম ও বিনোদনের অধিকার: শিকাগোর সেই ঐতিহাসিক দাবি ছিল—আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিনোদন এবং আট ঘণ্টা বিশ্রাম। কিন্তু আজকের দিনেও অধিকাংশ নারীর জন্য ‘বিনোদন’ বা ‘বিশ্রাম’ একটি বিলাসিতা মাত্র। দিনশেষে অতিরিক্ত ক্লান্তিতে অনেক নারীই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দাবি আজ ঘরের ভেতরেরও: রান্নাঘরের মশলার ধোঁয়া আর অফিসের কম্পিউটারের কিবোর্ড—শ্রমের মর্যাদায় কোনোটিই কম নয়। মে দিবসের এই দিনে দাবি ওঠা উচিত ঘরের ভেতরের কাজেরও। নগদ টাকা না হলেও অন্তত ‘সম্মান’, ‘সহযোগিতা’ এবং ‘কাজের অংশীদারিত্ব’ নিশ্চিত করা জরুরি। সুস্থ অর্থনীতির জন্য কারখানার শ্রমিকের পাশাপাশি ঘরের ভেতরে থাকা নারীর সুস্থতা ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন