শ্রমিক ও সহকর্মীর মর্যাদা: পবিত্র কোরআনে শ্রমিকের সক্ষমতা ও বিশ্বস্ততাকে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড ধরা হয়েছে। সুরা আল-কাসাসে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই ভালো কর্মচারী সেই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বাসী।” এছাড়া মুসা (আ.) যখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তিনি একজন যোগ্য সহকর্মী হিসেবে তার ভাই হারুন (আ.)-এর সাহচর্য প্রার্থনা করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, কর্মক্ষেত্রে যোগ্য সহযোগী বা সহকর্মী সাফল্যের অন্যতম অনুষঙ্গ।
দ্রুত পারিশ্রমিক পরিশোধ: শ্রমিকের অধিকার আদায়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কালজয়ী নির্দেশনা হলো— “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।” (বায়হাকি)। ইসলামে শ্রমের মূল্য দিতে দেরি করা বা ঠকানোকে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্ব: ইসলাম মালিক ও শ্রমিকের দূরত্ব কমিয়ে এনেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তারা (শ্রমিকরা) তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ তাদের দায়িত্ব তোমাদের ওপর অর্পণ করেছেন। তাদের ওপর এমন কোনো কাজ চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে।” (বুখারি)।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ইসলামের শিক্ষা: দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের সমাজে ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের রাজপথে নামতে হয়। চা-শ্রমিক, মুটে-মজুর ও বর্গাচাষিরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। এমনকি নারীদের গৃহস্থালি শ্রম এবং লেখক-শিক্ষকদের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমেরও সঠিক মূল্যায়ন হয় না।
ইসলাম শিক্ষা দেয়:
পারস্পরিক সুসম্পর্ক: হাসিমুখে সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলাও একটি 'সদকা'।
অংশীদারিত্ব: ভালো কাজে একে অপরকে সাহায্য করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমানত স্বরূপ।
পরিশেষে, শ্রমবিমুখতা বা পরমুখাপেক্ষিতা নয়, বরং নিজ হাতের উপার্জনকে ইসলাম সবচেয়ে পবিত্র ঘোষণা করেছে। শ্রমিকের প্রকৃত মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের এই মানবিক বিধানগুলো বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জান্নাত/সকালবেলা