মেসি ও ইয়ামালের সাক্ষাতের নেপথ্যের লটারির গল্প

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
মেসি ও ইয়ামালের সাক্ষাতের নেপথ্যের লটারির গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। আর তাঁর সাবেক ক্লাব বার্সেলোনায় ডান প্রান্ত মাতিয়ে খেলা ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালকে ভাবা হচ্ছে এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের যোগ্য ও উপযুক্ত উত্তরসূরি। আগামী রবিবার বিশ্বকাপের মহা-ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও ১৯ বছরের ইয়ামালের ফুটবলীয় যুগলবন্দি এবার বিশ্বমঞ্চে অনন্য রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে ফুটবল ভক্তদের কাছে মাঠের এই লড়াই প্রথম হলেও, দুই প্রজন্মের এই দুই মহাতারকার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল প্রায় ১৯ বছর আগে—২০০৭ সালে।

লটারি জিতে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ২০০৭ সালে ২০ বছর বয়সী মেসি যখন বার্সেলোনার মূল একাদশে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন, তখন লামিনে ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস। বার্সেলোনার তৎকালীন মাঠ ‘ক্যাম্প ন্যু’-এর অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন স্প্যানিশ ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ত।

কাতালান সংবাদপত্র স্পোর্ট এবং বার্সেলোনার জার্সি স্পন্সর ইউনিসেফ যৌথভাবে প্রতিবছর একটি দাতব্য বর্ষপঞ্জি (ক্যালেন্ডার) প্রকাশের আয়োজন করত। ১২ জন শিশুর সাথে বার্সেলোনার ১২ জন ফুটবলারের ছবি তোলা হতো এই দাতব্য সহায়তার অংশ হিসেবে। সেই আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য শত শত পরিবারের মধ্যে একটি লটারির আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই লটারিতে বিজয়ী হয়ে ভাগ্যক্রমে শিশু ইয়ামালের পরিবারের জন্য নির্ধারিত খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন লিওনেল মেসি!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালের বাবা ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির সূচনা’

বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,

“এটি সত্যিকার অর্থেই নিয়তির এক অলৌকিক ঘটনা। এমন এক অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনা, যা আপনারা কল্পনার বাইরেও ভাবতে পারবেন না। মেসি ছিলেন খুব শান্ত ও লাজুক স্বভাবের এক তরুণ। ড্রেসিংরুমে এসে একটি ছোট্ট শিশুকে দেখে কীভাবে কোলে নিতে হবে, তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তবে শিশু ইয়ামাল ছিল খুব হাসিখুশি।”

ইয়ামালের পিতা মরক্কো বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউই এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির শেইলা এবানা বার্সেলোনা থেকে ২০ মাইল দূরের শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায় থাকতেন। ইয়ামালের পুরো নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। বাবা-মায়ের চরম অর্থনৈতিক সংকটের দিনগুলোতে সহায়তার হাত বাড়ানো দুই বন্ধুর সম্মানে তার বাবা নাম রেখেছিলেন 'লামিনে' (বিশ্বস্ত) ও 'ইয়ামাল' (সৌন্দর্য)। মাঠের লড়াইয়ে গোল করার পর আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ ইশারা করে নিজ এলাকার পোস্টকোডের প্রতি শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তোলেন এই স্প্যানিশ তারকা।

১৯ বছর বয়সে মেসির ক্যারিয়ারে গোল ছিল ১১টি, যেখানে তরুণ ইয়ামাল ইতোমধ্যেই দেশের হয়ে ইউরো ২০২৪-সহ ক্লাবের হয়ে ৫০টির বেশি গোল ও বেশ কিছু বড় শিরোপা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।

ফটোগ্রাফার মনফোর্তের মতে,

“আমার মনে হয়, মেসি ও ইয়ামালের গল্পের চক্রটি ফাইনালের মাধ্যমে পূর্ণ হতে যাচ্ছে। মেসি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নিলে দারুণ হবে, আবার ইয়ামালের সামনেও পুরো ভবিষ্যৎ পড়ে রয়েছে। ফাইনালের এই দ্বন্দ্বে আমার হৃদয় যেন দুই টুকরো হয়ে যাচ্ছে!”

মন্তব্য করুন