ফ্রান্সকে হারিয়ে কি ২০২২-এর প্রতিশোধ নিতে পারবে মরক্কো?
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক ও রূপকথার মতো পথচলার পর যে বুকভাঙা বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল, বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার দলটির সামনে এখন সেই পুরোনো স্মৃতিকে পেছনে ফেলার এক দারুণ ও মোক্ষম সুযোগ এসেছে। ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াই তথা কোয়ার্টার ফাইনালে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ খ্যাত মরক্কোর সামনে আবারও দাঁড়িয়ে সেই একই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ফ্রান্স।
চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস সম্পূর্ণ নতুন করে লিখেছিল মরক্কো। কিন্তু থিও হার্নান্দেজ আর রানডাল কোলো মুয়ানির দুই অর্ধের দুটি অলৌকিক গোলে ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে কোটি ভক্তের স্বপ্নযাত্রা থমকে গিয়েছিল। এবার আবারও ফুটবল বিশ্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতা প্রমাণ করার চূড়ান্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে মরক্কো। তবে অতীতের সেই ভূতকে কোনোভাবেই বর্তমানের এই নকআউট ম্যাচের ওপর ভর করতে দেওয়া যাবে না বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর আন্তর্জাতিক ফুটবল রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক বা সুখকর নয়। ১৯৮৮ সালে দুই দেশের প্রথম অফিসিয়াল মুখোমুখি হওয়ার পর ১৯৯৯ ও ২০০০ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও ফরাসিদের আক্রমণভাগের সামনে মরক্কোকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। মাঝে ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচ ২-২ গোলে নাটকীয় ড্র হলেও ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল ম্যাচটিই মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের বুকে আজীবন সবচেয়ে বড় ক্ষত হয়ে আছে। স্পেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রিয়াল রোনালদোর শক্তিশালী পর্তুগালকে বিদায় করে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছেও থমকে যেতে হয়েছিল তাদের।
কাতার বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের মূল স্কোয়াড থেকে মাত্র সাতজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো দলে জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন। পুরোনো সেই ক্ষত দলে এখনও সতেজ হলেও, দলের জ্যেষ্ঠ ফুটবলারদের উচিত এটিকে হতাশার কারণ না বানিয়ে বরং ফরাসিদের শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার এক দারুণ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বড় দলের সাথে সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে, তা তারা গত দুই বিশ্বকাপে বারবার প্রমাণ করেছে।
বিগত সেমিফাইনাল থেকে মরক্কোর জন্য সবচেয়ে বড় ও টেকনিক্যাল শিক্ষা ছিল ম্যাচের শুরুতেই নিজেদের নার্ভ বা খেই হারিয়ে না ফেলা। ২০২২ সালের সেই ম্যাচে মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগের অসতর্কতায় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল মরক্কো, যার ফলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কাউন্টার-অ্যাটাকিং দল ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই তাদের চেনা রক্ষণাত্মক দুর্গ ছেড়ে অল-আউট আক্রমণে উঠতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে আটকে রাখা মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে অ্যাটলাস লায়ন্সরা ম্যাচের প্রথমার্ধে যত বেশি সময় ফরাসিদের গোল করা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তাদের কাউন্টার-অ্যাটাকে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ঠিক ততটাই বাড়বে। গতবার ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে ফ্রান্স নিজেদের ইচ্ছেমতো ম্যাচের টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করার এবং শেষে কাউন্টার-অ্যাটাকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল।
এবার মরক্কো ভালো করেই জানে, আক্রমণভাগের ধার বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের পক্ষে আনতে হলে মাঠের ৯০ মিনিটে ধৈর্য, গতি আর ডিফেন্সের কঠোরতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, বোস্টনের সবুজ ঘাসে আজ মরক্কো কি পারবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতটি ফরাসি বধের মাধ্যমে চিরতরে মুছে দিতে?
|