কালীগঞ্জে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক

পঙ্কজ সরকার নয়ন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে সেলাই করা কাপড় প্রতিবেশীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে নির্যাতিত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের দেওয়ানবাড়ী এলাকার এক গৃহবধূ বাড়িতে দর্জির কাজ করেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী হানিফ দেওয়ান ওরফে হানিফার স্ত্রী তাঁর কাছে একটি কাপড় সেলাই করতে দেন। গত ১৮ জুন বিকেলে সেলাই করা সেই কাপড়টি পৌঁছে দিতে ওই গৃহবধূর ৯ বছর বয়সী কন্যাসন্তান হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে সে সময় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে হানিফ দেওয়ান শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে এই ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ভয় ও চরম মানসিক আতঙ্কের কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। তবে ঘটনার কয়েকদিন পর থেকেই সে শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৭ জুলাই তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি তার ওপর সংঘটিত এই পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত লম্পট হানিফকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”

এদিকে, এই জঘন্য বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শহিদুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন