স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল আবার আয়োজনের দাবি, অনলাইন পিটিশনে হাজারো স্বাক্ষর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল আবার আয়োজনের দাবি, অনলাইন পিটিশনে হাজারো স্বাক্ষর

ক্রীড়া ডেস্ক: গত ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টাইনদের স্তব্ধ করে ১-০ গোলের জয় দিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। তবে শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণে জয়ী দলের নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের হতাশা ও ক্ষোভ এখনও কমেনি।

বিশেষ করে ম্যাচের রেফারিংয়ের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ফাইনালটি পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলেছেন ফুটবল বিশ্ব জুড়ে থাকা হাজার হাজার সমর্থক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অনলাইনে চালু হওয়া একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন ৬১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী।

‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’ (change.org) নামের একটি জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই আবেদনটি শুরু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক। এতে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)-র কাছে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিস ও ভিএআরের বিতর্কিত ভূমিকা পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। যদিও এসব দাবির সপক্ষে শক্ত কোনো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও ফুটবলের নিরপেক্ষতার স্বার্থে ফিফাকে সম্পূর্ণ ম্যাচটি পুনরায় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ভক্তরা।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন অনুযায়ী, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের পরিচালিত এ ধরনের কোনো অনলাইন ক্যাম্পেইনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা ফিফার মূল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কার্যকর ক্ষমতা নেই। খেলা পুনরায় আয়োজনের মতো অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত কেবল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা ফিফার সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধানের আওতায় বিচার্য।

উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে এ ধরনের ঘটনা কিন্তু এবারই প্রথম নয়। এর আগে সেমিফাইনালে স্পেনের একটি বিতর্কিত পেনাল্টি লাভ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রায় ৮২ হাজার সমর্থক ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। স্বভাবতই ফিফার কাছ থেকে সেটিরও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি।

গত ১৯ জুলাইয়ের সেই টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে জয় তুলে নেয় স্পেন। তোরেসের সেই ঐতিহাসিক গোলেই নিশ্চিত হয় স্প্যানিশদের সোনালী ট্রফি।

পরাজয়ের পর বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও, প্রিয় দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠায় অধিনায়ক লিওনেল মেসিদের প্রতি ভালোবাসার কোনো কমতি রাখেনি সাধারণ ভক্তরা।

মন্তব্য করুন