‘চোখের বদলে চোখ’: মার্কিন হুমকি ও আগ্রাসনে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
‘চোখের বদলে চোখ’: মার্কিন হুমকি ও আগ্রাসনে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পবিত্র ভূখণ্ড কিংবা অভ্যন্তরীণ জাতীয় অবকাঠামোতে যেকোনো ধরনের সাময়িক বা সার্বিক সামরিক আগ্রাসনের জবাবে অতীব কঠোর, নজিরবিহীন ও সংহারক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিশেষ ও জরুরি বার্তায় তেহরানের এই অনমনীয় প্রতিরক্ষা নীতির কথা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ নীতি একেবারে পরিষ্কার ও দিবালোকের মতো স্পষ্ট—'চোখের বদলে চোখ'। ইরানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পরিচালিত যেকোনো রূপ আগ্রাসন ওয়াশিংটন বা অন্য যেকোনো আক্রমণকারী পক্ষের জন্য এক চরম শক্তিশালী, বিধ্বংসী ও নির্ণায়ক পালটা সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।"

আমেরিকার সম্ভাব্য বোমাবর্ষণের হুমকির পটভূমিতে একই সংগে আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যারা ইরানের ওপর পরিচালিত যেকোনো বিমান বা সামরিক হামলায় কোনো প্রকার সাহায্য, ঘাঁটি প্রদান কিংবা কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন জোগাবে, তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সেই দেশ ও পক্ষগুলোও ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ (Legitimate Target) হিসেবেই গণ্য হবে এবং তাদের ওপরও পালটা আঘাত হানা হবে।

উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন স্থানে তেলবাহী ও বাণিজ্যিক নৌযানে হামলা চালানো হলে তেহরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রধান অবকাঠামোতে সরাসরি বোমাবর্ষণ করে তা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সেই সরাসরি সামরিক হুমকির চড়া জবাব দিতেই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ‘চোখের বদলে চোখ’ তুলে নেওয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি বার্তা এল, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন যুদ্ধের চরম শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন