শিক্ষাছুটি শেষে দেশে না ফেরায় বাকৃবির ১২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষাছুটি শেষে দেশে না ফেরায় বাকৃবির ১২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসনিক ভবন

 শিক্ষা ডেস্ক: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষাছুটিতে গিয়ে নির্ধারিত সময় পার হলেও দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেননি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১২ জন শিক্ষক। শিক্ষাছুটির চুক্তি বা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করায় এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী বন্ডের অর্থ ও ক্ষতিপূরণ আদায়সহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আইন অমান্যকারী এসব শিক্ষকের কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ বর্তমানে মোট পাওনার পরিমাণ ৪ কোটি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮০১ টাকা।

সংস্থাপন শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাকৃবির বিভিন্ন বিভাগের মোট ১২০ জন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে অবস্থান করছেন। বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে চুক্তিপত্র বা বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়, যেখানে বলা থাকে ছুটি শেষ হওয়ামাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে না আসলে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অব্যাহতি দেওয়া এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি বিধান রয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, দেশের বাইরে অবস্থান করা এসব শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রথমে ৩০ দিনের মধ্যে কাজে যোগদানের চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়। এতে সাড়া না মিললে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত সময়েও না ফিরলে প্রশাসনিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী চাকরি থেকে অব্যাহতি ও বন্ডের টাকা আদায়ের মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়।

দেশে না ফেরা শিক্ষকদের মধ্যে কৃষি অনুষদের ২ জন, ভেটেরিনারি অনুষদের ১ জন, পশুপালন অনুষদের ৩ জন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ১ জন এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং বাকিদের কাছে তাগিদপত্র পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এই শিক্ষকদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ ছিল ৪ কোটি ৫১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৫ টাকা, যার মধ্যে ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৪ টাকা ইতোমধ্যে আদায় সম্ভব হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া জানান, নিয়মের বাইরে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষকেরা বন্ড সই করেই ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। মেয়াদ শেষে অনেকে নিয়ম মেনে বকেয়া পরিশোধ করে পদত্যাগ করেন। তবে যারা অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফেরত আসবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ ও মামলা পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন