ঘোড়াঘাটে আমের মুকুলে বসন্তের আগমনী বার্তা, সুবাসে ম ম করছে প্রকৃতি

ঘোড়াঘাটে আমের মুকুলে বসন্তের আগমনী বার্তা, সুবাসে ম ম করছে প্রকৃতি

সাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সর্বত্র এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত। গ্রামবাংলার বাগানে, পথের ধারে, বাড়ির আঙিনায় ও পুকুরপাড়ে আম গাছগুলো মুকুলের অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়েছে। হালকা রোদ আর মিঠে বাতাসে দুলছে সোনালী মুকুলের থোকা, যা জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা।

সাধারণত জানুয়ারির শেষ ভাগ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে ফুল ফোটে। ঘোড়াঘাটের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন তাকালেই চোখে পড়ে হলুদ আর সবুজের মাখামাখি। মুকুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশ আমোদিত। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ব্যস্ততা শুরু করে দিয়েছে প্রাকৃতিক পরাগায়ন। প্রকৃতি ও পরিশ্রমের এই মেলবন্ধনই আগামীর বাম্পার ফলনের আশা জাগাচ্ছে।

এক সময় কেবল শখের বশে বাড়ির আঙিনায় আম গাছ লাগানো হলেও, বর্তমানে ঘোড়াঘাটে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে 'বোম্বাই' ও 'হাড়িভাঙ্গা' আমের চাহিদা ও ফলন এই অঞ্চলে লক্ষ্যণীয়। উপজেলার আম চাষি নজরুল ইসলাম ও মজিবর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে আমের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি আম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

আমের এই মুকুল কেবল পুষ্টি বা বাণিজ্যের বিষয় নয়, এটি গ্রামবাংলার চিরায়ত সৌন্দর্যেরও অংশ। ছোট ছোট শিশুদের আমের মুকুল কানে বা চুলে গুঁজে খেলা করতে দেখা যায়। ঘোড়াঘাটের প্রতিটি জনপদ যেন এখন সেজেছে প্রকৃতির নিজস্ব অলংকারে। সুবাসে মোহিত এই জনপদে বসন্ত যেন ঠিক আমের মুকুল ছুঁয়েই নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে।

আমের এই প্রাচুর্য ধরে রাখতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে, যাতে রোগবালাইমুক্ত থেকে আমের গুণগত মান বজায় থাকে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন