ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মো. কোরবান আলী রিপন, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় নতুন করে প্রশাসক নিয়োগের গুঞ্জন ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে স্থানীয় জননেতা মো. আজাদ হোসেনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। পৌর এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তিনি যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি হতে পারেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আজাদ হোসেন ও তার পরিবার রাজনৈতিক কারণে চরম প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন শাসনামলে তার বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি অন্তত ২৬ বার কারাবরণ করেছেন। দলের দুঃসময়ে উল্লাপাড়া উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি রাজপথে অগ্রণী ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, আজাদ হোসেন উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ উল্লেখ্য যে, বিগত সময়ের একটি পৌরসভা নির্বাচনে যখন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেকেই প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন, তখন তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাহসিকতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি, তবে চরম বৈরী পরিবেশে তার সেই অংশগ্রহণকে দলীয় মহলে এখনো একটি সাহসী ও নিষ্ঠাপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
উল্লাপাড়া পৌর এলাকার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোটারদের একাংশ জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং স্থানীয় মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগের কারণে আজাদ হোসেনের প্রতি সাধারণ মানুষের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, সুযোগ পেলে তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভার প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
তবে পৌরসভায় নতুন প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চমহলের সিদ্ধান্তের ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে কে পাচ্ছেন এই দায়িত্ব। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক হিসেবে যেই মনোনীত হন না কেন, উল্লাপাড়া পৌরসভার সুষম উন্নয়ন ও জনগণের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর প্রধান চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ