কুয়াকাটায় মানহীন বীজে আমন আবাদ তছনছ, সর্বস্বান্ত কৃষক

প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটায় মানহীন বীজে আমন আবাদ তছনছ, সর্বস্বান্ত কৃষক

জাহিদ শিকদার (বিশেষ প্রতিনিধি): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি ‘হলুদ ট্যাগ’ ও অননুমোদিত বীজের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন অর্ধশতাধিক আমন চাষি। উপজেলার আলিপুর ও মহিপুর এলাকায় ‘ইউনাইটেড সীড’ কোম্পানির ‘ব্রি-৪৯’ জাতের ধান রোপণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় অসময়ে শীষ বেরিয়ে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

প্রতি ১০ কেজির বস্তা ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা এসব বীজে ছিল না কোনো উৎপাদন তারিখ। সরকারি প্রত্যয়ন ও প্যাকেটের গায়ের 'হলুদ ট্যাগ' দেখে কৃষকেরা বিশ্বাস করলেও, চড়া দামের বীজ রোপণ করে এখন সার, সেচ ও শ্রমিকের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ হারিয়ে লতাচাপলি ইউনিয়নের কালু মুসল্লী ও মেহেদী খানের মতো বহু চাষি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

বীজ সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিবন্ধিত পরিবেশক 'হাওলাদার কৃষি ঘর'-এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা মানহীন বীজ বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা বাজারে বিক্রি করা হলেও কৃষি অফিসের কোনো কার্যকর তদারকি ছিল না বলে অভিযোগ কৃষকদের। ফসল হারিয়ে লোকসানের মুখে পড়ায় ডিলাররা কেবল মৌখিক আশ্বাস দিলেও ক্ষতিপূরণের লিখিত কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি—শুধুমাত্র বীজের দাম নয়, আবাদের পেছনে ব্যয় হওয়া পুরো খরচের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ট্যাগের আড়ালে অসাধু উপায়ে কৃষক ঠকানো চক্রকে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, বীজ সনদের হলুদ ট্যাগটি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা হলেও মান খারাপের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ডিলারের। কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তায় আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এআইএল/সকালবেলা