মহম্মদপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

মহম্মদপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

এম এ রইচ, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) উপজেলার কানুটিয়ায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শহীদ জিয়ার দর্শন ছিল ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শীঘ্রই কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ উদ্বোধন করবেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের সরকার দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর।"

নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খালটি খনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। এতে কৃষকরা সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাবুখালি রায়পুর সুইচগেট থেকে বালিদিয়া নিরবিশখালি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই খনন কাজ চলবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন প্রায় ৮৯২ জন শ্রমিক এই খনন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খাঁন রোকনুজ্জামান এবং মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানুর জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রইচ উদ্দীন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ বাকী মিয়া ও মোঃ নজরুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুজ্জামান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এলাকাবাসী সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই খালটি খনন সম্পন্ন হলে কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনের মান উন্নত হবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন