নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাম ও শহর—উভয় জায়গার শ্রমবাজারে এক নীরব ও গভীর রূপান্তর ঘটছে। একদিকে কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকের চাপ বাড়ছে। গ্রাম থেকে শহরে এই স্থানান্তরের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা, মাসিক বেতন কাঠামো এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ।
দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ধান রোপণ, কাটা কিংবা ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে শ্রমিক সংকট এখন বড় সমস্যা। কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর তথ্যমতে, দেশে আড়াই কোটিরও বেশি শ্রমিক কৃষি খাতে কাজ করছে। তবে গত দেড় বছরে এই খাত থেকে চার-পাঁচ লাখ শ্রমিক কমেছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য কোনো সুসংগঠিত কাঠামো বা নীতিমালা না থাকায় এবং বাজার সিন্ডিকেটের চাপে পড়ে অনেক কৃষক ও শ্রমিক এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
কৃষিখাতের তুলনায় শিল্প খাতে পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা বেশি হওয়ায় শ্রমিকরা সেদিকেই আকৃষ্ট হচ্ছেন। নিয়মিত বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং শহরের জীবনযাত্রার হাতছানি এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি থেকে গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক স্থানান্তর এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বিস্তৃত প্রবণতা।
এই পরিবর্তন একদিকে শিল্প খাতকে শক্তিশালী করলেও অন্যদিকে কৃষিখাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমিকদের প্রকৃত স্বস্তি নিশ্চিত করতে হলে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং বাস্তব জীবনের ব্যয়, নিরাপত্তা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে কৃষিখাতকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে দেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনে বড় সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
জান্নাত/সকালবেলা