নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক বাক-প্রতিবন্ধী (৩৫) গৃহকর্মীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান ও একমাত্র পলাতক আসামি আরিফ মিয়াকে (২০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরিফ মামলার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
আজ রোববার (৩১ মে) দুপুরে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবীবুল ইসলাম হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গতকাল শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার আরিফ উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর হাটবামুনী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোসলেমা খাতুন ও আসামির বাড়ি পাশাপাশি। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে গত দুই বছর আগে আরিফের বাবার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন ওই বাক-প্রতিবন্ধী নারী। এই সুযোগে আসামি আরিফ বিভিন্ন সময়ে মোসলেমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং ধর্ষণের ঘটনায় আরিফের জড়িত থাকার বিষয়টিও ভুক্তভোগী ইশারায় নিশ্চিত করেন।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবার নিশ্চিত হয় যে, ভুক্তভোগী ওই নারী ৭ মাস ১৭ দিনের অন্তঃসত্ত্বা। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২ জুলাই থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি অভিযুক্তের বাবাকে জানালেও কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আরিফ মিয়াকে আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা নসিমন বেগম।
এদিকে, ধর্ষণের শিকার ওই বাক-প্রতিবন্ধী নারী সম্প্রতি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের মাত্র দেড় মাসের মাথায় গত ২৯ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতক শিশুটি মারা যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, মামলার পর থেকেই আসামি আরিফ পলাতক ছিলেন। গত ২৯ মে রাতে পাশের একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।