ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পুলক রায়, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় যানজট নিরসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা মালামাল জব্দ করাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নালিতাবাড়ী উত্তর বাজার এলাকায় তীব্র যানজট বৃদ্ধি এবং রাস্তা দখলের অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে শৃঙ্খলা ফিরাতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা বেশ কিছু দোকানের পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানান।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে দোকানের সীমানার ভেতরে থাকা মালামালও জোরপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। তাদের দাবি, তারা নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পণ্য রেখেছিলেন, কিন্তু প্রশাসন তা অগ্রাহ্য করে মালামাল গাড়িতে তুলে নেয়। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পণ্য ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা শোনা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, যানজট নিরসন ও বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আইনানুগভাবে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযান চলাকালে সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে এসে অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না তা জানতে চান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি প্রতিকূল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তার অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে দোকানের ভেতরের মালামালও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এছাড়া অভিযানের সময় প্রশাসনের নিয়মিত স্টাফ ছাড়াও কিছু বহিরাগত ব্যক্তি মালামাল সরাতে সহায়তা করছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মাইকিং করে আগে থেকে সতর্ক না করেই অভিযান চালানোর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ