এমপি রুমিন ফারহানা ও বিএনপি নেতার সমর্থকদের পাল্টা-পাল্টি মামলা

এমপি রুমিন ফারহানা ও বিএনপি নেতার সমর্থকদের পাল্টা-পাল্টি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সরাইল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও মারধরের অভিযোগ এনে রুমিন ফারহানার কর্মী মো. আহাদ একটি মামলা দায়ের করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পাল্টা মামলা ঠুকে দেওয়া হয় রুমিন ফারহানার সমর্থকদের নামে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ মিয়ার দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এতে আরও চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেনের কর্মচারী তামিম মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রুমিন ফারহানার ১৭ জন নামীয়সহ ১০০-১৫০ জন সমর্থক আনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার' ও বাড়ির সামনে হামলা-ভাঙচুর চালায়। প্রতিবাদ করতে গেলে বাদীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়। মূলত শহীদ মিনারে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত।

উল্লেখ্য যে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরকারি কোনো আয়োজনে অংশ নিতে নিজ সংসদীয় এলাকায় এসে লাঞ্ছনার শিকার হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহাদ নামে এক কর্মী আহত হন। চরম উত্তেজনার মুখে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই ফিরে যেতে হয় রুমিন ফারহানাকে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে। বিপরীতে রোববার আনোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকেও পাল্টা মিছিল বের করা হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সোমবার আনোয়ার হোসেন আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। সরাইলের সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে থাকায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন