ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী: চৈত্রের খরতাপে রাজশাহীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা দুই দিন ধরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে অল্প সময়েই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন তারা।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা তিনটায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে তাকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। সেই হিসেবে রাজশাহীতে টানা দুই দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছে।
নগরের পঞ্চবটী এলাকায় ইট ভাঙার কাজ করা শ্রমিক রেজাউল করিম বলেন, “আগের মতো আর কাজ করা যায় না। আধা ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর আর সাড়া দেয় না। গরম খুব বেশি।” রিকশাচালক সোহেল রানা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে। অনেক শ্রমিককে কাজের ফাঁকে বারবার বিশ্রাম নিতে এবং প্রচুর পানি পান করতে দেখা গেছে।
তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, উত্তরাঞ্চলে গরমের তীব্রতা বেশি থাকায় অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে ইতিমধ্যে ‘হিট স্ট্রোক কর্নার’ চালু রাখা হয়েছে।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
রাস্তাঘাটের খোলা শরবত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা।
প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা।
বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা।
সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ