ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পলাশ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ফুটের (স্থানীয় ভাষায় বাঙ্গি) বাম্পার ফলন হলেও বাজারে উপযুক্ত দাম না থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। ঋণ করে চাষাবাদ করা কৃষকদের স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটালীপাড়ার বাজারগুলোতে ফুটের দাম এতটাই নিম্নমুখী যে, এখন আর কেজি বা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে না। ক্রেতারা গামলা ভরে ফুট তুলছেন এবং প্রতি গামলা মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় এই দাম অস্বাভাবিক কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বিক্রেতারা।
উপজেলার স্থানীয় চাষি সুভাষ হাজরা আক্ষেপ করে বলেন, "ধার-দেনা করে তিন বিঘা জমিতে ফুটের চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সারা বছর সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।" উপযুক্ত ক্রেতার আশায় দীর্ঘক্ষণ বাজারে বসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে মাথায় হাত দিয়েছেন তিনি।
পুরানো ও অভিজ্ঞ চাষি ভবানন্দ বিশ্বাসের মতে, বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ফুটের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ফলের আধিক্য দেখা দিয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতার সমাগম নেই।
স্থানীয় সাবেক মেম্বার সুজন ফলিয়া মনে করেন, চাষিদের এই পেশায় টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা জরুরি। তিনি বলেন, "সরকার যদি কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করে, তবেই হয়তো আগামী বছর চাষিরা পুনরায় ফুট চাষে আগ্রহী হবেন।"
অন্যথায়, লোকসানের ভয়ে আগামী মৌসুমে কোটালীপাড়ার অনেক চাষি এই অর্থকরী ফসল চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ