গলাচিপায় হাসান মামুনের হুঙ্কার: ‘বহিষ্কারের জবাব হবে ব্যালটে’

গলাচিপায় হাসান মামুনের হুঙ্কার: ‘বহিষ্কারের জবাব হবে ব্যালটে’

আবু নাইম হুসাইন, গলাচিপা (পটুয়াখালী): দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক শ্রম ও ঘাম মিশে থাকা দল থেকে পদত্যাগ এবং পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে ‘ঘোড়া’ মার্কার শেষ নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই শপথ নেন।

হাসান মামুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ৪৬ বছর এই এলাকায় বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য ছিল না। আমরা রক্ত ও শ্রম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে এখানে শক্তিশালী সংগঠনে রূপান্তর করেছি। কিন্তু নির্বাচনের সময় জনবিচ্ছিন্ন জোটের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আবেগের অমর্যাদা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের চাপে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। দল থেকে পদত্যাগ করার পরও আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি তা মেনে নিয়েছি। তবে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার শপথ নিয়েছি।”

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ যেমন বালু দিয়ে আটকে রাখা যায় না, তেমনি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই স্রোতকেও কেউ দমাতে পারবে না। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসন একটি নিরাপদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। কোনো অপপ্রচার বা সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে কান না দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

হাসান মামুন প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে ফেরিঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনস্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. মাসুম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মো. শাহিন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিশাল এই জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে হাসান মামুনের শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন