ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর): রংপুরের পীরগাছায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এখন নিত্যদিনের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাবশালী চক্রের এই লুটপাট চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে নদীর বুক চিরে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের বসতভিটা ও ফসলি জমি।
উপজেলার কল্যাণী, পারুল, ইটাকুমারী, অন্নদানগর, ছাওলা ও কান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা যায়, ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ট্রলিতে করে এই বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কল্যাণী ও ছাওলা এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, "প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে নদী শেষ করে দিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির শিকার হতে হয়। অথচ প্রশাসন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে আছে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের অভিযান শুরুর আগেই খবর পৌঁছে যায় বালু খেকোদের কাছে, ফলে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, "তিস্তা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে ছাওলা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিসাত জাহান জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা মাঝেমধ্যে তদারকি করলেও কর্মকর্তারা চলে আসার পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। নদী রক্ষা ও পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ