নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষ ও কলস প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষ

নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষ ও কলস প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষ

শুভ সরকার, নড়াইল: নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নড়াইল-২ আসনের সদর উপজেলার গাবতলা এলাকায় পরাজিত ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর কলস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটা এই সংঘর্ষে দুই নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন শরীফ খসরুজ্জামান এবং কলস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন মো. মনিরুল ইসলাম। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ১১-দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী শেখ ছালাউদ্দিন সালু (আম প্রতীক)। শুক্রবার বিকেলে গাবতলা এলাকায় পরাজিত দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই পক্ষই। কলস প্রতীকের সমর্থক সেলিম মোল্যা অভিযোগ করেন, "বিকেলে আমরা চা দোকানে বসে ছিলাম। এসময় ধানের শীষের লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষের দুই নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।" আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেলিম মোল্যা, নাজমুল মীর, হাবিবুর মোল্যা, সাইফুর মোল্যা, কাদের মোল্যা, হাসান মোল্যা, আরিফ মোল্যা, আমিরন বেগম ও আমেনা বেগম।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থক ফয়জুর রহমান দাবি করেন, "কলস প্রতীকের সমর্থকরা আমাদের দলীয় নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করতে আসে। আমরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আমাদের পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন।" আহতরা হলেন সাইফুল মোল্যা, রোমান মোল্যা, রাব্বি মোল্যা, ইসমাইল মোল্যা ও ফয়জুর রহমান।

নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোশনি খানম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১৪ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা নড়াইল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কলস ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন