ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে শিল্পনগরী গাজীপুর ছাড়তে শুরু করেছেন হাজার হাজার শ্রমিক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সরকারি সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ায় পোশাক কারখানা ও বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিকরা পরিবারের কাছে ফিরতে গাজীপুরের শ্রীপুরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় করছেন। তবে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষ হওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত (মোট সাড়ে ৮১ ঘণ্টা) বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটার ব্যতীত অন্য কেউ সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধের কারণে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ মোড়, মাওনা চৌরাস্তা ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
শেরপুরগামী যাত্রী সোহেল জানান, মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছেন না। যে দু-একটি বাস আসছে, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করছে। একই অভিযোগ করেছেন ত্রিশালগামী যাত্রী রাজন। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব, তাই বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ করে বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের মতো শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।”
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, মহাসড়কে বাসের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইওয়ে পুলিশের টিম কাজ করছে। শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই ছুটি কেবল ভোটের জন্য নয়, দীর্ঘ দিন পর পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি বড় সুযোগ। তবে বাড়তি ভাড়ার এই নৈরাজ্য যাত্রার আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ