ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিপুল ব্যবধানে জয় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বাবর ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। স্থানীয়রা এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এখন সর্বত্র একটাই প্রশ্ন—এই জনরায় কি তাকে আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে?
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেসরকারিভাবে লুৎফুজ্জামান বাবর পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট। দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বাবরের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাবরের কঠোর অবস্থান দলের অভ্যন্তরে এবং বাইরে এখনও আলোচিত। মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদার বলেন, “এই বিজয় প্রমাণ করে জনগণ তার নেতৃত্বে কতটা আস্থা রাখে। বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।” খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও মনে করেন, দেশের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাবরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো উচিত।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণ দলীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়। দলের একটি বড় অংশ বাবরকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখতে চাইলেও, সবকিছু নির্ভর করছে নবনির্বাচিত সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর। তৃণমূলের এই প্রবল জনমত দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।
নেত্রকোনার মানুষের মনে এখন কৌতূহল—ব্যালট বিপ্লবের এই রায় কি শেষ পর্যন্ত লুৎফুজ্জামান বাবরকে পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মসনদে বসাবে? নাকি তাকে অন্য কোনো গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে?
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ