পাগলা মসজিদের ১৩ সিন্দুকে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ণ
নূর আহাম্মদ পলাশ,কিশোরগঞ্জ : দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে সিন্দুকগুলো খোলা হয়।
সিন্দুক খোলার পর এবার মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে সেই টাকা গণনার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ছয় মাস ধরে জমা হওয়া দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সিন্দুক খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়। গণনা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর সিন্দুক খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হওয়ায় দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাগলা মসজিদ শুধু মুসলমানদের নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছেও গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের স্থান। বহু মানুষ মনে করেন, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে মহান আল্লাহ তাদের মনের আশা পূরণ করেন। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা সামগ্রী দান করেন। অনেকেই রোগমুক্তি, সন্তান লাভ, উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত কল্যাণের উদ্দেশ্যে মানত করে থাকেন।
শুধু অর্থ নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ধান, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের উপহারও নিয়মিতভাবে দান করা হয়। এসব দান নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের তহবিলে জমা করা হয়।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই শতাব্দী পুরোনো এই মসজিদটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে দেওয়ান জিলকদর দাদ খানের উত্তরসূরি আধ্যাত্মিক সাধক ‘পাগলা সাহেব’ এর স্মৃতি। তাঁর নাম থেকেই ‘পাগলা মসজিদ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।
প্রতিবারের মতো এবারও সিন্দুকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ জানতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন দেশজুড়ে লাখো মানুষ।
|