শ্রীমঙ্গলে গ্লাসের আঘাতে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীমঙ্গলে গ্লাসের আঘাতে যুবকের মৃত্যু

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চায়ের দোকানে পানি খাওয়ার গ্লাস নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে কাচের গ্লাসের আঘাতে সোহেল মিয়া (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত সোহেল মিয়া উপজেলার আলিশারকুল গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সিন্দুরখান সড়কে ভাড়া বাসায় থাকতেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়া (৩২) সিন্দুরখান সড়ক এলাকার ফজর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে সোহেল মিয়া সিন্দুরখান সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। সেখানে পানি খাওয়ার গ্লাস দেওয়া-নেওয়া নিয়ে ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ইসমাইল উত্তেজিত হয়ে দোকানের একটি ভারী কাচের গ্লাস দিয়ে সোহেলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে সোহেলের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সোহেলকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরে যান। তবে দুপুরের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে স্বজনেরা তাঁকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনির্বাণ দেব জানান, “সোহেল মিয়ার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।”

সোহেল মিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পৌর শহরে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানকালে অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন