‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব’

প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ
‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব’

শিবচর উপজেলা (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের শিবচরে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত ও মারমুখী আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমপি হানজালাকে আঙুল উঁচিয়ে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলতে শোনা যায়, "কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?" একপর্যায়ে তিনি তীব্র গতিতে টেবিল চাপড়ে টেবিলের ওপর রাখা ফাইল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেন, "এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেবো।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি কর্মী তারা মিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিচার চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।

ভুক্তভোগী বিএনপি কর্মী তারা মিয়া দাবি করেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। তিনি বলেন, "সালিশে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে এমপির সাথে আমার কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব অন্য কাউকে কথা বলার বা সত্য প্রকাশ করার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে আমার মনে হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ করতেই তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।" তিনি আরও যোগ করেন, শত শত মানুষের সালিশে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসাই স্বাভাবিক। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সবার বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা, তা না হলে সেটি প্রহসনের বিচারে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, "ঘটনাটি প্রায় দেড় মাস আগের। স্থানীয়দের অনুরোধে পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি সেখানে সালিশে গিয়েছিলাম। বিচার চলাকালে উভয় পক্ষ নিজেরা তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। মূলত চারপাশের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি একটু কড়া ভাষায় ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারটি সুন্দরভাবেই নিষ্পত্তি হয়েছিল।"

তবে ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন "খেয়ে ফেলার" হুমকির ভাষা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন