দেশে ষড়যন্ত্র নেই বলা ভুল: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ
দেশে ষড়যন্ত্র নেই বলা ভুল: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক: দেশে বিরাজমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ঢালাওভাবে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার করাও মস্ত বড় ভুল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত সুধী সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, "দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির মতো একটি দায়িত্বশীল দল কেন অন্যের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে? কারণ মজলুমের কষ্ট ও আত্মত্যাগ আরেক মজলুম ছাড়া কেউ ভালো উপলব্ধি করতে পারে না।"

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমরা কোনোভাবেই চাই না দেশ নতুন করে কোনো চোরাবালিতে হারিয়ে যাক কিংবা কোনো অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ শহীদের তাজা রক্ত এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্বের ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গোটা জাতিকে এই মহতী আত্মত্যাগের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।"

বিগত গণরায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, "দেশ বদলের স্বপ্ন নিয়ে আমরা এক অভূতপূর্ব গণরায় পেয়েছিলাম। তখন বিরোধী দল কিংবা বিএনপি-জামায়াত বলে কোনো বিভেদ ছিল না, সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেই রায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর অনেকেই নিজেদের অবস্থান পাল্টে ফেলেন। তারা ভেবেছিলেন যা ইচ্ছা তা-ই করা সম্ভব। কিন্তু জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পরিণতি কী নির্মম হতে পারে, তার প্রমাণ কেবল বৈশ্বিক ইতিহাসেই নয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসেও স্পষ্টভাবে রয়েছে।"

সরকারের কার্যাবলীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে, কিন্তু বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত সেই পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। খোদ সরকারি দলের মহাসচিবও স্বীকার করেছেন সরকার গঠনের পরও দুর্নীতি কমেনি, বরং বেড়েছে। আমরা যে কথাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, এতদিন তা অস্বীকার করা হচ্ছিল।"

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, "তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের পরিচয়ে নির্বাচিত নন, তিনি সমগ্র দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি তার সমান দায়িত্ব পালন করা উচিত। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনিয়ম বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।"

গণমাধ্যমের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যম হলো সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমই সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনে।

সুধী সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ-এর সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন