কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ
কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত

সকালবেলা অনলাইন: কওমি ঘরানার কয়েকজন মাওলানা সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর যুক্ত হওয়ার খবর আলোচনায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে কওমি ধারার আলেম ও শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সাতটি দলের শীর্ষ নেতাদের ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ও রাজনীতিতে পথ চলার নতুন বার্তা দেওয়া হয়। উপস্থিত নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কওমি ঘরানার আলেমদের কেউ কেউ আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার কারণে সাধারণ কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দলটির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। জামায়াতে ইসলামীতে কেউ যোগ দিলে তাঁর আকিদাগত বিভ্রান্তি বা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কওমি আলেমরা। ফলে এই যোগদান প্রতিহত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

১৬ জুলাইয়ের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কথা স্বীকার করেছেন হেফাজতে ইসলামের একজন নায়েবে আমির। তিনি বলেন, "বৈঠকে প্রসঙ্গক্রমে বিষয়টি আলোচনায় আসে। জামায়াতের সঙ্গে আলেমদের অতীত যোগাযোগের সুযোগে তরুণদের একটি অংশ দলটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, যা চিন্তার বিষয়। কারণ মূলধারার কওমি আলেমদের বড় অংশই জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থি ইসলামি দল হিসেবে গণ্য করেন না।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন