ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাস এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির তিন স্তরের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ—কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবীণ রক্ষণশীল ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের সমন্বয় করা হয়েছে। গত নভেম্বরে টানা তৃতীয়বারের মতো তিন বছর মেয়াদে আমির নির্বাচিত হওয়া ডা. শফিকুর রহমানের অধীনে প্রায় তিন মাস পর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলো।
আমির নির্বাচন প্রক্রিয়া: জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আমির নির্বাচিত হন সরাসরি শপথধারী সদস্য বা রুকনদের গোপন ভোটে। বর্তমানে সারাদেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার রুকন এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে আমির পদে প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি ভিন্ন। প্রথমে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যরা গোপন ভোটের মাধ্যমে তিনজনের একটি প্যানেল বা বাছাই তালিকা তৈরি করেন। এই তিনজনের নাম সারা দেশের রুকনদের কাছে পাঠানো হয় এবং রুকনরা তাঁদের মধ্যে একজনকে গোপন ব্যালটে ভোট দিয়ে আমির নির্বাচন করেন।
মজলিশে শূরা গঠন: কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন হয় তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে সারা দেশের রুকনরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে শূরা সদস্য নির্বাচন করেন। দ্বিতীয় ধাপে, নির্বাচিত শূরা সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আরও ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করেন। চূড়ান্ত বা তৃতীয় ধাপে, প্রথম ধাপে নির্বাচিত সদস্যসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ সদস্যকে আমির তাঁর গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতা বলে সরাসরি নিয়োগ দেন। সাধারণত চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও আইনজীবীদের মতো পেশাজীবী এবং ভোটে জয়ী হতে না পারা যোগ্য নেতাদের এই ধাপে যুক্ত করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর এ টি এম আজহারুল ইসলামকে নায়েবে আমির ঘোষণা করা হলেও, জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তিন মাস পর গঠিত এই কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ থাকলেও জামায়াত নেতৃত্ব মনে করছে, নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে গঠিত এই কাঠামো সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ