বার বার ত্রুটি ও বিধ্বস্ত হওয়ায় এবার বড় মহড়ায় তেজসকে রাখছে না ভারত

বার বার ত্রুটি ও বিধ্বস্ত হওয়ায় এবার বড় মহড়ায় তেজসকে রাখছে না ভারত

একের পর এক কারিগরি ত্রুটি এবং বিধ্বস্তের মতো ঘটনার কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) আয়োজিত বড় আকারের মহড়া ‘বায়ু শক্তি’-তে অংশ না নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানের। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে পোখরানে অনুষ্ঠিত মহড়ার ‘ফুল ড্রেস রিহার্সাল’-এ তেজস এমকে-১ অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় মূল মহড়াতেও এই বিমানটি অংশ নাও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে মহড়ায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা প্রদর্শনের তালিকায় তেজস এমকে-১ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ৭ ফেব্রুয়ারির একটি কারিগরি ঘটনার পর পুরো তেজস বহরের ওপর নিরাপত্তা যাচাই (সেফটি চেক) চালাচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। সে কারণেই আপাতত মহড়া থেকে বিমানটি বাদ পড়তে পারে। দেশটির বিমান বাহিনী ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম তেজস এমকে-১ তাদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বর্তমানে দুটি স্কোয়াড্রন পরিচালনা করছে।

এবারের ‘বায়ু শক্তি’ মহড়ায় মোট ৭৭টি যুদ্ধবিমান, ৪৩টি হেলিকপ্টার, আটটি পরিবহন বিমানসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাভিযান অনুশীলন পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) এক বিবৃতিতে জানায়, তেজস এমকে-১ সম্প্রতি ভূমিতে অবস্থানকালে একটি সামান্য কারিগরি সমস্যার মুখে পড়েছিল এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গণমাধ্যমে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তা তারা নাকচ করে দেয়।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দুবাই এয়ারশোতে একটি তেজস এমকে-১ বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চ মাসে রাজস্থানে মহড়ার সময় আরও একটি তেজস বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও সেবার পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। সবশেষ এই কারিগরি জটিলতা এমন এক সময় তৈরি হয়েছে, যখন ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে ১৮০টি উন্নত এলসিএ এমকে-১এ কেনার পরিকল্পনা করছে। তবে পাঁচ বছর আগে অর্ডার দেয়া এই যুদ্ধবিমানগুলোর একটিও এখনো সরবরাহ করা হয়নি।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন