পুড়ে কয়লা ১০ লাশ, পরিচয়ে ভরসা কেবল ডিএনএ

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
পুড়ে কয়লা ১০ লাশ, পরিচয়ে ভরসা কেবল ডিএনএ

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পর্যটন এলাকা মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেকের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১০ জন পর্যটকের দেহ আগুনে পুড়ে একেবারে অঙ্গার হয়ে গেছে। মরদেহের অবয়ব ও চেহারা এতটাই বীভৎস ও দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে যে, দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কোনো স্বজনের পক্ষেই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে করুণ পরিণতিতে মৃত্যুবরণ করা এসব পর্যটকের প্রকৃত পরিচয় বের করতে এখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরেনসিক বায়োলজিক্যাল ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে আকস্মিক ও বিকট আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের টানা দুই ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টা ও নিখুঁত উদ্ধার অভিযানের পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে রিসোর্টের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে ১০টি ভয়াবহভাবে দগ্ধ লাশ বের করে আনা হয়।

মরদেহগুলোর করুণ পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজিদুর রহমান বলেন, “লাশগুলোর ভৌত অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ও বিকৃত হয়ে গেছে যে, কেবল মুখ বা অবয়ব দেখে চেনার কোনো অবকাশ নেই। তাই বৈজ্ঞানিক ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পরই কেবল নিহতদের প্রকৃত পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা সম্ভাব্য স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং লাশের পরিচয় মেলাতে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”

ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার এই মর্মস্পর্শী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা। স্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে গভীর শোকাহত দেওয়ান ফয়সাল বলেন, “আগুন আমার স্ত্রীর শরীরকে পুরোপুরি চেনার অযোগ্য করে দিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া এই মুহূর্তে আমার স্ত্রীর দেহ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছি।”

ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের হাতে মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে।