ব্রেস্ট ক্যান্সারের ভয়াবহতা রোধে চিকিৎসকদের মাঠে নামার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ব্রেস্ট ক্যান্সারের ভয়াবহতা রোধে চিকিৎসকদের মাঠে নামার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে স্তন বা ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ও এর ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর দেশে প্রায় ১৩ হাজার নারী ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ সচেতনতার অভাবে আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশই রোগ সম্পর্কে অনেক দেরিতে জানতে পারেন, যা চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তোলে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, চিকিৎসকদের উচিত বছরে অন্তত একবার নিজ নিজ এলাকায় বা গ্রামে গিয়ে নারীদের এই মরণব্যাধি সম্পর্কে সচেতন করা।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তৃতাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে চলার কুফলের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমাদের নিজেদের সর্বনাশ করে ফেলছি। আর এর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন আমাদের দেশের নারীরা।”

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “চিকিৎসকদের শুধু চেম্বারে বসে থাকলে চলবে না। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নারীদের এ রোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, এর ঝুঁকি এবং সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নারীদের অবহিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষার আওতায় আনা গেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এই উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে সুনির্দিষ্ট স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সেমিনারে উপস্থিত চিকিৎসাবিদেরা ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সমাজজুড়ে প্রচলিত রাখঢাক বা সংকোচ দূর করার ওপর জোর দেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও নারীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।