ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে দেশে নতুন করে ১৭টি আধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ৬টি রাজধানী ঢাকায় এবং বাকি ১১টি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাভিত্তিক সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। এর ফলে ঢাকার বাইরের ক্যান্সার রোগীরা নিজ নিজ বিভাগ ও জেলা শহরেই স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং রাজধানীর প্রধান হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ বহুলাংশে কমবে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঢাকার বাইরে ক্যান্সার চিকিৎসা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সর্বাধুনিক চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশে রোবটিক সার্জারির সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোট চাহিদার ১০টি রোবটিক সার্জারি মেশিনের মধ্যে ৫টি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে আনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।’
দেশে বছরব্যাপী বিশেষ পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সারা দেশে এই বৃহৎ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এ সময় মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি সরাসরি প্রবাস ও স্থায়ী বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও স্বাস্থ্য পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক ধরন পরিবর্তন এবং আক্রান্তদের ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক (হৃদরোগ সংক্রান্ত) জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে স্থানীয় সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার গুরুত্বারোপ করেন তিনি।