রমেকের আইসিইউ বেড দ্বিগুণ হবে, আসবে সিসিটিভির আওতায়: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) বেড ১০টি থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করা হবে। এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতাল এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "বিগত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিবাদী শাসনকালে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও অবহেলা চরমে পৌঁছেছিল। সেই অবস্থা থেকে বের করে এনে হাসপাতালটিকে একটি জনবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করতে আমরা তিন ধাপের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।"
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র ১০টি আইসিইউ বেড চালু রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও ১০টি যুক্ত করে মোট সংখ্যা ২০টিতে উন্নীত করা হবে। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেবিনে ভর্তি রোগীর স্বজনদের মধ্যে অন্তত একজনের থাকার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতালে উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ছিনতাই ও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাতি লাগানো হবে। দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের বাধাদান বা বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটলে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
লাশ পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাইলেজভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও রসিদের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের নতুন নিয়ম চালুর লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের জলাবদ্ধতা নিরসনে রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। হাসপাতালের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে তৈরি করা অননুমোদিত পথ বন্ধসহ অবৈধ দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমানে নিয়োজিত ১২৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে বহিরাগত ও দালালদের তৎপরতা বন্ধে কর্মী ও রোগীর স্বজনদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইডি কার্ড ও পোশাক বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক আচরণের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল এক দিনে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও স্থানীয় সুধীজনের সার্বিক সহযোগিতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে খুব দ্রুতই হয়রানিমুক্ত ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।"
সভায় বক্তব্য পেশ ও উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভা শেষে ত্রাণমন্ত্রী রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কেডি ও জিয়া খাল খনন কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শন করেন।
এআইএল/সকালবেলা
|