মেধা ও যোগ্যতায় সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সময়ের আধুনিক চাহিদানুযায়ী একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কঠোর অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মেধা, সততা, দক্ষতা ও শারীরিক যোগ্যতাই হওয়া উচিত একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধানতম মাপকাঠি।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উপস্থিত শীর্ষ জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সময়ে যুদ্ধের সামগ্রিক ধরন বদলে গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত তীব্র প্রতিযোগিতা। তাই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা دفاعি সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে—যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত এবং সাধারণ জনগণ একযোগে একটি সমন্বিত কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই কাঠামোর উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং দেশকে যে কোনো বহিরাগত সংকট বা আগ্রাসনে আত্মনির্ভরশীল ও প্রস্তুত রাখা।"
নিজের কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলোর কথা স্মৃতিকাতর হয়ে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ক্যান্টনমেন্ট আমার আবেগ ও স্মৃতিবিজড়িত স্থান। সেনা অনুশাসনের পরিবেশেই আমার বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমি বেড়ে উঠেছি। ফলে সেনাবাহিনীকে আমি আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ মনে করি। সেনাবাহিনীর সাফল্য আমাকে গৌরবান্বিত করে, আবার কোনো নেতিবাচক খবর আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে।"
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মেজর জিয়ার ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর বাহিনীতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা দূর করে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা রক্ষা, ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, মাইন অপসারণ এবং বন্যা ও জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বজুড়ে অর্জিত সুনাম, সম্প্রতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ সুদান মিশনে শহিদ ৬ জন সেনাসদস্যের ত্যাগ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার’। তাই সেনা কর্মকর্তাদের পেশাগত শৃঙ্খলা ও শারীরিক ফিটনেসের (ফিজিক্যাল ফিটনেস) ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস না করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের মূল দর্শন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—কে সামনে রেখে গঠিত এই পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী ও পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে।
|