কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
বঙ্গোপসাগরের সুবিশাল জলসীমা ও তলদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে কক্সবাজারে বিশেষায়িত ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ (UBEST) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ প্রস্তাবের ভিত্তিতে কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বোরি) বিদ্যমান আধুনিক অবকাঠামো, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাথমিক একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রশাসনিক নথি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আধা-সরকারি পত্রে (ডিও লেটার) সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’র জন্য আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ গবেষক ও পেশাজীবী তৈরিতে কক্সবাজারে এ ধরনের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক নীতিগত সম্মতি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জরুরি কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ, সীমানা প্রাচীর ও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভবন নির্মাণ করে কার্যক্রম শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ বছর দীর্ঘ সময় লেগে যায়; যাতে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষও জড়িত। এই দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রামু-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান সুবিশাল গবেষণা ভবন, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি, সুপরিসর অডিটোরিয়াম, তথ্যভাণ্ডার ও উচ্চপ্রশিক্ষিত বৈজ্ঞানিক জনবলকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্নাতক (অনার্স), স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) এবং বিশেষায়িত পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হবে। এর মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বিভাগগুলোর তালিকায় রয়েছে—সমুদ্রবিজ্ঞান ও সামুদ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি (Marine IT), সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ ও টেকসই উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যটন ও ব্লু হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।
এদিকে কক্সবাজারে সমুদ্র গবেষণাধর্মী এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঘোষণায় স্থানীয় শিক্ষক, গবেষক ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ কাশেম গণমাধ্যমকে জানান, “বিশাল সমুদ্রসীমা সংলগ্ন কক্সবাজারে একটি সমুদ্রভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক ইতিবাচক নির্দেশনায় কক্সবাজারবাসী একটি নতুন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেতে যাচ্ছে—এটি সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতি ও স্থানীয় উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং আনন্দের খবর।”