প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সম্ভাব্য দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ও একটি প্রটোকল। এ ছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় সফরকালে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
আসাদ আলম সিয়াম জানান, খরচ কমাতে এবং যৌক্তিকতা বিবেচনায় মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা কম রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবে।
পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, আগামীকাল রবিবার (২১ জুন) থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলন ‘সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬’-এ অংশ নেবেন। লিয়াওনিং প্রদেশের বন্দরনগরী দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৯০টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’।
সফরের মূল অংশে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতেই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সফরের মালয়েশিয়া পর্বে মূলত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সচল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|