স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে পোশাক শ্রমিক নেতাদের জরুরি বৈঠক শুরু

প্রকাশ: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে পোশাক শ্রমিক নেতাদের জরুরি বৈঠক শুরু
সচিবালয়ে পোশাক খাতের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে উর্ধ্বতনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত জরুরি বৈঠক

দেশজুড়ে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছেন পোশাকশিল্পের শ্রমিক নেতারা।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে একই স্থানে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষ মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন যাতে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাস্তবতার নিরিখে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করে ন্যূনতম মজুরি সুনির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

একই সঙ্গে দেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা ও পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, কিছু শিল্পকারখানার মালিক এবং শ্রমিক কল্যাণের দোহাই দেওয়া কিছু বিতর্কিত শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে এই অস্থিরতা ছড়ানো হচ্ছে। সহিংসতা সৃষ্টিকারী এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মূল মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ইউটিলিটি খরচ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে সাধারণ শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিকেলে শুরু হওয়া সরকারের এই শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক থেকে ইতিবাচক সমাধান আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।