ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যাওয়ার প্রত্যয় অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যাওয়ার প্রত্যয় অর্থমন্ত্রীর
'রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬'-এ বক্তব্য রাখছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজস্ব ব্যবস্থায় আমূল ও যুগান্তকারী সংস্কার আনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বের করে নিজস্ব অর্থায়ননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, করের বোঝা না বাড়িয়ে বরং করের আওতা সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ, কর ফাঁকি রোধ এবং শতভাগ অটোমেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, "আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান কাঠামোগত দুর্বলতা হলো বিশ্বের অন্যতম নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত আরও কমে ৬.৭ শতাংশে নেমেছে। যেখানে ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯.৫ শতাংশ। অর্থনীতির আকার বাড়লেও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা সেভাবে বাড়েনি। এই ব্যবধান দূর করতে 기존 করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুনদের করের আওতায় আনতে হবে।"

রাজস্ব প্রশাসনে নেওয়া বড় ধরনের পুনর্গঠন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, "পুরোনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র, আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর একটি হবে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং অন্যটি ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’।"

তিনি বুঝিয়ে বলেন, ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ সরকারের থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করবে এবং অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক কর কাঠামো তৈরি করবে। অন্যদিকে, ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ এনফোর্সমেন্ট ও সরাসরি রাজস্ব আদায়ের কাজ করবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি হলেও এ লক্ষ্যমাত্রা ইচ্ছে করেই ধরা হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির পথ ধরে নিজেদের সম্পদ দিয়েই উন্নয়নের অর্থায়ন করতে চায়।

রাজস্ব আদায়ে আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও অংশীদারিত্ব—এই তিন মূলনীতির কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনো করদাতাকে যেন কর্মকর্তাদের কাছে যেতে না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ 'কন্টাক্ট-ফ্রি' ও 'ফেসলেস' রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড ও ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালুর মাধ্যমে এই সেবা নিশ্চিত করা হবে।"

ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে দেন, সরকার ব্যবসার বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে, তবে সময়মতো কর-ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অর্জিত এই সংস্কারের পথ ধরেই ২০২৯ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার দিকে বাংলাদেশ সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন