যতটুকু প্রাপ্য তাও গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
যতটুকু প্রাপ্য তাও গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি

অনলাইন ডেস্ক: বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে নিজের জটিল রোগের চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা খরচের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই খরচের চুলচেরা হিসাব ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

ড. খালিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনিভাবে পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে যেকোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়ার অধিকারী।

বিদেশে চিকিৎসার নিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের লিখিত সুপারিশ এবং সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই আমি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রথম দফায় ডায়াগনোসিস ও এনজিওগ্রাম বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়, যার প্রতিটা ব্যয়ের রসিদ ও ভাউচার আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।”

নিজের গুরুতর অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত জটিল হৃদরোগ, হাই ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। উপদেষ্টা থাকাকালীন তাঁর হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়লে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড লিখিতভাবে জানায় যে, ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটি জটিল অপারেশন জরুরি, যার আধুনিক প্রযুক্তি দেশে নেই।

তিনি আরও বলেন, “পবিত্র হজের দায়িত্ব পালন শেষে বিগত জানুয়ারি মাসে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে আমার মূল অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। সেখানে বিল আসে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যদিও বিল আরও বেশি ছিল, তবে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ অনুরোধে কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া গেছে।”

ড. খালিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, সরকার আইনানুসারে শুধুমাত্র তাঁর হাসপাতালের মূল বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের প্রকৃত ব্যয় বহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁর পরিচর্যার জন্য সাথে যাওয়া সহযাত্রীর সমস্ত খরচ তিনি নিজে বহন করেছেন। এমনকি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর নিজের হোটেলের বিল, খাওয়া-দাওয়া এবং যাতায়াত খরচও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের একাংশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা, নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখেছি। আইনমতে, যতটুকু আমার প্রাপ্য তাও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু কিছু মিডিয়া এই বৈধ ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যেন জনমানসের মনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। আমি এসব বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই।”

মন্তব্য করুন