ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হবে: আবদুস সালাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হলে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, "আমরা জনগণের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের যে আদর্শ ও শিক্ষা দিয়েছেন, তা বুকে ধারণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দলকে দুর্বল করা যাবে না।"
আজ রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ, নিয়মনিষ্ঠ ও সৎ রাষ্ট্রনায়ক। মৃত্যুর ৪৫ বছর পরও দেশের মানুষ তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও কর্মের জন্য তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করে সম্মুখ নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তিনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতো।"
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "গত ১৭ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক চাকরি হারিয়েছেন, অন্যায্য বদলি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন নিজেদের পাওয়ার কথা না ভেবে দেশের মানুষের কথা আগে ভাবতে হবে। দীর্ঘদিন যারা অন্যায়ভাবে চাকরি হারিয়েছেন বা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রশাসনকে জনগণের কথা শুনতে হবে এবং অসহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।"
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "৫ আগস্টের পর আমাদের নেতা তারেক রহমান যদি সংযত থাকতে না বলতেন, তবে দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। অন্যায়ের বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যাতে মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আওয়ামী লীগ ছিল দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের দল, কিন্তু বিএনপি জনগণের দল।"
তিনি নেতাকর্মীদের ত্যাগের মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স বা বিলাসবহুল সম্পদ ছিল না। তাই তাঁর প্রকৃত অনুসারী হতে হলে ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ত্যাগ করে দেশের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।"
এআইএল/সকালবেলা
|