রামিসা হত্যা মামলায় আজ সোহেল ও স্বপ্নার আত্মপক্ষ শুনানি
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘আইন-আদালত ও মানবাধিকার’ বিভাগের এক বিশেষ জরুরি বুলেটিনে নিম্ন আদালতের এই চাঞ্চল্যকর আপডেট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আদালত সূত্র জানায়, আজ বুধবার সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরাসরি ঢাকা সিএমএম আদালত চত্বরে আনা হয়। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগে তাদের আদালতের নিরাপদ মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়েছে। সকাল ১০টায় তাদের কাঠগড়ায় হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন এর বিশেষ আদালতে এই স্পর্শকাতর শুনানি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ আজকের কার্যসূচির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) এই ট্রাইব্যুনালে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পূর্ণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তালিকাভুক্ত মোট ১৭ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনই বিজ্ঞ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন— নিহত রামিসার ভাগ্যাহত বাবা ও মামলার মূল বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, বাড়ির মালিক, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, আলামত জব্দকারী পুলিশ সদস্য, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা (IO)। গত সোমবার (১ জুন) একই আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রেক্ষিতে অভিযোগ গঠন (Charge Frame) করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর ঐতিহাসিক আদেশ দিয়েছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে মিরপুর পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বন্ধ ঘরের দরজার সামনে শিশুটির ব্যবহৃত চটি স্যান্ডেল দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই আঁতকে ওঠেন সবাই। ঘরের ভেতরের খাটের নিচে পড়ে ছিল রামিসার রক্তাক্ত মাথাবিহীন মরদেহ এবং পাশের বাথরুমের একটি নোংরা বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পল্লবী থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহালে বেরিয়ে আসে, পাষণ্ড সোহেল রানা শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাটি শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর খুনি সোহেল রানা বাথরুমের জানালার লোহার গ্রিল কেটে দ্রুত পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তদন্ত চলাকালীন সময়ে খুনি সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিল।
ঘটনার দিনই রামিসার বাবা পল্লবী থানায় এই দম্পতিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (Charge Sheet) দাখিল করেন, যা আজ চূড়ান্ত রায়ের মুখোমুখি দাঁড়াল।
জান্নাত সকালবেলা