বিএডিসিতে বদলি ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
বিশেষ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) বিভিন্ন সমিতির পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড, কৃষিমন্ত্রণালয়ে তাঁদের ঘনঘন যাতায়াত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে কথিত হস্তক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকারী একজন নেতার দায়িত্বাধীন একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
বিএডিসি দেশের কৃষিউৎপাদন, মানসম্মত বীজ সরবরাহ, সার ব্যবস্থাপনা এবং সেচ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ, গোষ্ঠীগত প্রভাব কিংবা অনানুষ্ঠানিক তদবিরের দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে তা শুধু দাপ্তরিক শৃঙ্খলাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না; প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জনস্বার্থেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির কয়েকজন নেতা সংগঠনের পদ-পদবির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ, কাউকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ, বদলি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ কর্মস্থল বিএডিসির কৃষিভবনে নিয়মিত অবস্থান না করে কৃষিমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। সমিতির নেতৃত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও জবাবদিহির জন্য উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে, বৈধ দাপ্তরিক প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা অনিয়ম নয়। তাই যাতায়াতের উদ্দেশ্য, অনুমোদন, দাপ্তরিক দায়িত্ব এবং কথিত তদবিরের প্রকৃতি যাচাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মূল প্রশ্ন হলো—সমিতির নেতৃত্ব কি সদস্যদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, নাকি সাংগঠনিক পরিচয়কে ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানের বিকল্প নেই।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকারী একজন নেতার দায়িত্বাধীন একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পেরটির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাস্তবায়নের গতি, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং সার্বিক অগ্রগতি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকেরা।
একটি প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারিত হয় তার অনুমোদিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা, বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রত্যাশিত সুফল অর্জনের মাধ্যমে। তাই প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, আর্থিক ব্যয়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার এবং প্রকল্প পরিচালকের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নে কি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে? কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি? প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকের কর্মদক্ষতা নিয়ে যথাযথ পর্যালোচনা হয়েছে কিনা, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির দায়িত্বাধীন প্রকল্পের মূল্যায়ন যেন তাঁর সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠামাত্রই দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ অপরিহার্য।
বাংলাদেশ সচিবালয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কেন্দ্র। সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ অবস্থায় বিএডিসির কোনো কর্মকর্তা বা সমিতির নেতার ঘনঘন সচিবালয়ে যাতায়াতের অভিযোগ থাকলে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য, দাপ্তরিক প্রয়োজন এবং প্রযোজ্য অনুমোদন যাচাই করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, এসব যাতায়াত কি সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ, নাকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে? এ বিষয়ে প্রবেশের নথি, সাক্ষাতের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রকৃতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি সময়ে কোনো কর্মকর্তা কোথায় অবস্থান করছেন, তাঁর অনুপস্থিতি অনুমোদিত কিনা এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন কিনা—এসব প্রশ্নের উত্তর দাপ্তরিক নথি থেকেই পাওয়া সম্ভব।
তবে বৈধ দাপ্তরিক প্রয়োজনে সচিবালয়ে প্রবেশ বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নিজে থেকেই অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিএডিসিতে কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, অফিসার, দ্বিতীয় শ্রেণির অফিসার, এপিও, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা এবং বিভাগ ও জেলাভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব সংগঠনের প্রত্যেকটির নিবন্ধন, গঠনতন্ত্র, প্রতিনিধিত্বের পরিধি এবং কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো সংগঠনের নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের তথ্য পরীক্ষা করা উচিত।
সরকারি কর্মচারীদের বৈধ দাবি-দাওয়া উত্থাপন, পেশাগত স্বার্থ রক্ষা এবং আইনসম্মতভাবে সংগঠিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। একইভাবে বৈধ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও কার্যক্রমও সুরক্ষিত থাকা দরকার। কিন্তু কোনো সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনুচিত প্রভাব বিস্তার করা হলে তা সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা—উভয়কেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
এখানে মূল বিবেচনা সংগঠনের সংখ্যা নয়; বরং সংগঠনগুলো আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং তাদের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন কিনা। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে বৈধ সংগঠনের অধিকার যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগও সীমিত হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং চাকরি সংক্রান্ত আচরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী কোনো অভিযোগ অসদাচরণের আওতায় পড়ে কিনা, তা যাচাই করতে হবে।
চাকরি সংক্রান্ত সুবিধা আদায়ে অনুচিত প্রভাব বিস্তার, দাপ্তরিক সময়ের অপব্যবহার কিংবা অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠলে নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো পদ, পরিচয় কিংবা সাংগঠনিক অবস্থান যেন বিশেষ সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হয়ে না ওঠে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রযোজ্য বিধিবিধান, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও জনস্বার্থ।
বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রতি প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির নীতি আরও সুদৃঢ় করতে তিনি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নেবেন।
বিএডিসির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব কেবল প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক স্বার্থ, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিএডিসির চেয়ারম্যানের সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতি—প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুসরণীয় মানদণ্ড হওয়া উচিত, কিন্তু তা কি হচ্ছে?
প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কৃষিমন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয় ও জবাবদিহি বজায় থাকে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা সমিতির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা উপেক্ষা না করে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এমন প্রশাসনিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, যেখানে কোনো কর্মকর্তা বা সমিতির নেতা তাঁর পদ-পদবির কারণে জবাবদিহির বাইরে থাকবেন না। প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন থেকে শুরু করে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসৃত হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
এই প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য।
বিএডিসি ও কৃষিমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা। প্রয়োজনে সমিতির নেতাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম, কর্মস্থলে উপস্থিতি, সচিবালয়ে যাতায়াতের উদ্দেশ্য, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের নথি যাচাই করা যেতে পারে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে বৈধ সংগঠনগুলোর অধিকার রক্ষা এবং কর্মকর্তাদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অনুচিত, তেমনি গুরুতর অভিযোগ উপেক্ষা করাও প্রশাসনিক জবাবদিহির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিএডিসি দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও জনগণের প্রত্যাশা।
তাই সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বের পরিচয়ে তদবির, বদলি ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এবং সমিতির শীর্ষ নেতার দায়িত্বাধীন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএডিসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই প্রত্যাশা।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক পরিচয় নয়, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, আইন ও জনস্বার্থই হবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি। এই নীতি নিশ্চিত করা গেলে বিএডিসিতে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার পথ আরও সুগম হবে।
এআইএল/সকালবেলা