জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর, মূল বেতন বাড়ছে ৫০%
জাতীয় ডেস্ক : দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল আলোচিত ও কাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় বেতন কাঠামো’ বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাপ্তরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নত করতেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই আকর্ষণীয় পে-স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৩১ মে) সকাল ১১টা ০৯ মিনিটে প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এই নতুন পে-স্কেলের খসড়া সুপারিশ এবং এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক বিস্তারিতভাবে জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
নতুন এই প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মাসিক মূল (বেসিক) বেতনই বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে না, বরং এর সাথে যুক্ত থাকা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য নানাবিধ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ও পেনশনেও এক বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত একলাফে বৃদ্ধির যে বিশেষ সুপারিশ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে সরকারি অফিসপাড়া ও সর্বস্তরের কর্মচারীদের মাঝে নতুন করে আনন্দ, উদ্দীপনা ও গভীর কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমান বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি বৈষম্যহীন গ্রেডের কোনো পরিবর্তন না করে তা হুবহু বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতনের সীমা সমানুপাতিক হারে প্রভূত পরিমাণে পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন খসড়া প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেসিক বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে একবারে ২০ হাজার টাকা করার ঐতিহাসিক সুপারিশ করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে, সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেসিক বেতন বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বমোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার জোরালো প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই খসড়া প্রস্তাবটি কোনো প্রকার বড় পরিবর্তন ছাড়াই চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর ইতিহাসে বিগত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়, যুগান্তকারী ও স্মরণীয় সংস্কার। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, যার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। ফলে এবারের এই ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন বহুগুণ সুসংহত করবে, তেমনি দেশের প্রশাসনিক কাজেও আরও গতিশীলতা আনবে।
তবে এই ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক বেতন কাঠামোটি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করার আগে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল বা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর সেই কাঙ্ক্ষিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই এখন অধীর আগ্রহে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন সারাদেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ।
জান্নাত সকালাবেলা